লোটাদের খুঁটে খাওয়া স্বভাব গেল না | ময়ুখ নস্কর



জীবজগতে Scavenger বলে এক শ্রেণীর প্রানি আছে। যেমন শেয়াল, হায়না, শকুন। এরা নিজেরা কোনও বড় প্রাণী শিকার করতে পারে না, বাঘ- সিংহের এঁটোকাঁটা খেয়ে বাঁচে। ইস্টবেঙ্গলের কিছু সমর্থকের মধ্যে ইদানীং এই Scavenger-এর মতো মানসিকতা দেখা যাচ্ছে।
না দেশভাগের পর এদেশে আসা যে রিফিউজিদের থাকা খাওয়ার ঠিক ছিল না, তাঁদের ব্যঙ্গ করছি না। তাঁদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে। ব্যঙ্গ করছি তাদের, যারা বলছে ১৯১১-র শিল্ডজয়ী মোহনবাগান দলের অনেকেই বাঙাল ছিলেন তাই ওই জয়ের ভাগ ইস্টবেঙ্গলকে দিতে হবে।
লোটারা মূর্খ জানতাম, এতটা মূর্খ জানতাম না। ওদের যুক্তি অনুযায়ী, ইস্টবেঙ্গলের সাতে সাত লিগ জয়ের আসল কৃতিত্ব ব্রিটিশ-অস্ট্রেলিয়ানদের। কারণ কোচ মরগান, খেলোয়াড় টোলগে, সুসাক, বারোস, এবছর অ্যাঙ্গাস সকলেই ব্রিটিশ-অস্ট্রেলিয়ান। গত বছরের লিগ জয়ের আসল দাবিদার নাইজেরিয়া। কারণ র্যা্ন্টি এবং বেলো দুজনেই নাইজেরিয়ান। যেবছর সুলে মুসা, ওপকু, জ্যাকসন এল সেটা আসলে ঘানার টিম ছিল।
সব থেকে বড় কথা ১৯১১ তে অখণ্ড বাঙলা, অখণ্ড ভারত। বাঙালরা মোহনবাগানে খেলবে নাতো কি আবাহনী ক্রীড়াচক্রে খেলবে? মোহনবাগান অখণ্ড ভারতের ক্লাব। সেখানে ঘটি-বাঙাল-অবাঙালি সবাই খেলেছে। এবং মোহনবাগানকে নিজের ক্লাব মনে করেই খেলেছে। কারণ মোহনবাগান ঘটি বাঙাল নির্বিশেষে সব বাঙালির ক্লাব।
ইস্টবেঙ্গল বরাবরই নিজেদের আঞ্চলিক দল হিসাবে তুলে ধরে বলে, আমরা বাঙালদের ক্লাব। সেই কথায় ভুলে অনেক বাঙাল তাঁদের সমর্থন করে। কিন্তু যারা মনে করেন, বাঙাল পরিচয়ের থেকে বাঙালি পরিচয় অনেক বড়, তাঁরা মোহনবাগানকেই সমর্থন করেন।
ভেবে দেখুন, ইস্টবেঙ্গলের জন্ম ১৯২০ সালে। ১৯১১-র বিজয়ী খেলোয়াড়রা তার পরেও অনেক দিন বেঁচে ছিলেন। কিন্তু কেউ কি ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছেন? গোষ্ঠ পাল, চুনি গোস্বামীর মতো বাঙালরা কি ইস্টবেঙ্গলে গেছেন?
জেনে রাখ লোটা, ১৯১১-র ওই ১১ জন স্বাধীনতার যোদ্ধা। স্বাধীনতার যোদ্ধাদের কোনও ঘটি বাঙাল হয় না। তাঁরা সবাই মোহনবাগান রত্ন। গোষ্ঠ-চুনি মোহনবাগান রত্ন। এতই যদি এদের ভালবাসিস তাহলে এদের ইস্টবেঙ্গল গৌরব দে। দেখি কত ভালোবাসা। এতই যদি ১৯১১-র প্রতি লোভ, প্রতি বছর তোদের ক্লাবে এই দিনটা পালন কর। দেখি কতটা সম্মান করিস এই দিনটাকে।
আর শোন চুপি চুপি একটা কথা বলে রাখি, তোদের ক্লাবটা জন্ম থেকেই Scavenger । যতই বাঙাল বাঙাল করে লাফাস না কেন, ১৯২০ সালে ঘটিদের দেশে ক্লাব খুলতে হয়েছিল। বাঙালদের দেশে একটুকরো জমিও তোদের জোটেনি, এমনই তোদের Scavengerএর দশা।
হয় মোহনবাগানকে নিজেদের ক্লাব বলে মেনে নে। নয়তো চুপ করে থাক। Scavenger-এর মতো ১৯১১-র দিকে হাত বাড়াস না।
Share on Google Plus

About Pradip Hazra

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.

0 comments :

Post a Comment